রোহিঙ্গা নিয়ে মিয়ানমারের আচরণে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী

0

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে মিয়ানমারের আচরণে বিরক্তি প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, তারা সব কিছুই স্বীকার করছেন, কিন্তু নিজ দেশের মানুষকে ফিরিয়ে নিতে কার্যকর কিছু করছে না।

রবিবার ঢাকা সেনানিবাসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মিয়ানমারের প্রসঙ্গটি কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে সেখানে যান তিনি।

দীর্ঘ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য অনেক বিষয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন ও দেশ গড়ায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ব্যবস্থাপনায় তাদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে সংবিধান রক্ষায় দেশের ভেতর ও বাইরের সব হুমকি মোকাবেলার নির্দেশ দেন তিনি।

এ সময় রোহিঙ্গা সংকটের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে আমরা ইতিমধ্যে আলাপ আলোচনা চালিয়েছি। তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে, তারা তাদের দেশর নাগরিককে ফিরিয়ে যাবে বলেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো এখন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কোনো… তারা সবই স্বীকার করে নিয়ে যাবে, কিন্তু কার্যকর কোনো কিছু করা হচ্ছে না।’

‘তবে আন্তর্জাতিক চাপও বাড়ছে এবং বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের সকলেই এখন সমর্থন জানাচ্ছে। কাজেই আমরা আশা করি যে, এই সমস্যাটা আমরা সমাধান করতে পারব।’

‘তা ছাড়া তাদের উপযুক্ত থাকার জন্য, কবে অত লোক ফিরে যাবে আমরা জানি না, তাই ভাসানচরে একটা আবাসিক ব্যবস্থা গড়ে তুলছি। আমাদের নৌবাহিনী এই ভাসানচরটা দেখছে, যেন আমরা তাদের উন্নতমানের বসবাসের ব্যবস্থা করতে পারি, সে ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।’

আশির দশক থেকেই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা সেনা অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে নানা সময় বাংলাদেশের দিকে ছুটে এসেছে। তবে গত বছরের আগস্টের পর এসেছে সবচেয়ে বেশি শরণার্থী। এই সংখ্যাটি এরই মধ্যে ১১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশ বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদেরকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক এবং একটি চুক্তিও হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমারের অযুহাতের যেন কোনো শেষ নেই। গত জানুয়ারিতে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও এখন অবধি একটি পরিবার ছাড়া আর কাউকেই তারা ফিরিয়ে নেয়নি।

রোহিঙ্গাদেরকে নিরাপত্তা ও তাদের সুযোগ সুবিধায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার পাশাপাশি ২০১৬ এবং পরের বছর জঙ্গিবিরোধী দুটি বড় অভিযানের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ এবং সিলেটের আতিয়ারমহলে অপারেশন টোয়াইলাইটের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে আছে হলি আর্টিজানের ঘটনার পর অনেক দেশ বলেছিল এটা বাংলাদেশ একা সামাল দিতে পারবে না, এ জন্য অনেক সময় লাগবে। কিন্তু আমার মনে আছে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমরা সেই জঙ্গিদের দমন করি। এই ক্ষেত্রেও আমরা বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করি।’

সেনাবাহিনী জাতি গঠনে ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজের তদারকি, কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক, ঢাকায় হাতিরঝিল উন্নয়ন প্রকল্প, বহদ্দারহাট, মহীপাল ফ্লাইওভার, থানচি-আলীকদম সড়ক নির্মাণের কথাও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

জাতিসংঘে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং বিভিন্ন বৈদেশিক মিশনে সেনা সদস্যদের আত্মত্যাগ, কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সেনা সদস্যরা বাংলাদেশের জন্য সম্মান ও মর্যাদা বয়ে এনেছে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। এই শান্তিরক্ষা মিশনে মালিতে নয় জন সেনা সদস্যের নিহত হওয়ার কথাও তুলে ধরে তাদেরকেও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

মন্তব্য
Loading...