বিএনপির ‘আবাসিক নেতা’ রিজভীর জ্ঞান নিয়ে হাছানের প্রশ্ন

0

রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির ‘আবাসিক নেতা’ আখ্যা দিয়ে তার জানাশোনা ও বোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ। ভারতের সঙ্গে হওয়া প্রতিরক্ষা সমঝোতা সামরিক চুক্তি নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার দুপুরে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন হাছান। এ সময় তিনি ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সমঝোতা নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভীর বক্তব্যের জবাব দেন।

২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে অন্যান্য অনেক বিষয়ের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা নিয়েও সমঝোতা হয়েছিল। গত ১২ মে দুই দেশের মধ্যে চুক্তির খবর প্রকাশ করেছে দৈনিক প্রথম আলো।

ওই খবরে বলা হয়, ‘প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় ঋণ বাস্তবায়ন এবং সার্বিক সহযোগিতার বিস্তার ঘটাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মোট চারটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারকে ভারত প্রতিরক্ষা খাতে যে ৫০০ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে, কীভাবে সেই অর্থ ব্যয় হবে তার রূপরেখা ঠিক করা ছাড়াও সই হয়েছে আরও তিনটি সমঝোতা স্মারক।’

এই খবরের পর ১৩ মে সংবাদ সম্মেলন করে রিজভী বলেন, ‘প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে কি না, সেই সংশয় এখন বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকতে দেশবাসীকে না জানিয়ে এই চুক্তি করেছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা।

পরদিন রিজভীর এসব বক্তব্যের জবাব আসে হাছানের সংবাদ সম্মেলনে। ভারতের সাথে গোপনে সামরিক চুক্তির অভিযোগকে রিজভীর ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের সাথে বর্তমান সরকারের গোপনে কোন চুক্তি হয়নি।’

রিজভীক জ্ঞান ও জানাশোনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাছান। বলেন, ‘রিজভী সাহেব একজন বিএনপির আবাসিক নেতা, তিনি বিএনপি কার্যালয়ে থাকেন এবং সেখানেই ঘুমান। এতদিন ভাবতাম তিনি বিএনপি অফিসে বসে কিছু পড়াশুনা করেন। কিন্তু এখন জানি তিনি কিছুই জানেন না, মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) এবং চুক্তির মধ্যে পার্থক্যও বুঝেন না।’

২০১৭ সালের ৮ এপ্রিল ভারতের সঙ্গে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছিল জানিয়ে হাছান বলেন, ‘সেই এমওইউ এর ব্যাপারে গত ৭ ও ৮ মে কিছু গাইডলাইন দেয়া হয়েছে। এখন এটাকে যদি চুক্তি হিসেবে দাবি করা হয় তাহলে বলতে হবে রিজভী সাহেব পাগলের প্রলাপ বকছেন।’

‘২০০২ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তারাই চীনের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করেছিল। আরও অনেক দেশের সাথে তারা চুক্তি করেছিল।’

‘আওয়ামী লীগ সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভারতের কাছ থেকে এক সুতাও ছাড় না দিয়ে ৪৬ বছরের পুরানো সীমান্ত সমাধান করেছে। আর ভারত বাংলাদেশকে মাত্র এক শতাংশ সুদে পাঁচশত মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে।’

হাছান বলেন, ‘বিএনপি ভোটের রাজনীতিতে  সবসময় ভারতবিরোধী প্রচারে সরব থাকেন, কিন্তু যখন ভারতের কোন রাষ্ট্রীয় অতিথি আসলে তাঁদের সাথে সাক্ষাতের জন্য তোড়জোড় শুরু করে।’

গত বছরের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় প্রতিরক্ষা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়। তখন এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। তবে যেসব বিষয় আলোচনায় এসেছিল, তার বেশিরভাগই বাস্তব হয়নি।

দেশে ফিরে ওই বছরের ১১ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে এই সমঝোতার বিস্তারিত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন তিনি বলেন, ‘প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আমরা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করব। এর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে প্রশিক্ষণ ও আলোচনা।’

‘জ্ঞান, শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের শেষ নেই। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বিভিন্ন কাঠামোগত সহযোগিতা, সেখানে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে আলোচনা সভা, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি সম্বলিত অনুষ্ঠান উদযাপন করা হবে। দুইদেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে শিক্ষা সফর, সামরিক প্রশিক্ষক এবং পর্যবেক্ষক বিনিময়, সামরিক সরঞ্জামাদি সংরক্ষণে পারস্পরিক সহযোগিতা, শান্তি রক্ষা বিষয়ক পর্যবেক্ষণ, ক্রীড়া ও দুঃসাহসিক কার্যক্রম পরিচালনা, দুর্যোগ ও বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা সহযোগিতা, দুই দেশের নৌবাহিনী জাহাজ ও বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজের সফর বিনিময় করব। এছাড়াও আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা সমন্নিত টহল অনুশীলন করব।’

অস্ত্র কিনতে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার বিষয়েও ওই সফরে যে চুক্তি হয়, সেই অর্থে বাংলাদেশ পৃথিবীর যে কোনো দেশ থেকে অস্ত্র কিনতে পারবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান শেখ হাসিনা।

হাছান মাহমুদের সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কৃষি ওসমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী ও উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

মন্তব্য
Loading...