‘মল সন্ত্রাসে’ জামায়াতকে দূষছেন মাদ্রাসা সুপার

0 ১২

বরিশালের বাকেরগঞ্জের রঙ্গশ্রী ইউনিয়নে মাথায় মল ঢেলে লাঞ্ছনাকারীদের বেশিরভাগই স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের রাজনীতিতে জড়িত বলে জানিয়েছেন লাঞ্ছনার শিকার মাদ্রাসা সুপার আবু হানিফ। আর জামায়াতপন্থীরা যাকে ঘিরে একজোট হয়েছিল, তারা স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা।

ভুক্তভোগী মাদ্রাসা শিক্ষক ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এই চক্রের অধিকাংশ লোকই জামায়াত শিবিরের রাজনীতি করে। এরা মুসল্লিদের ঠিকমত নামাজ পড়তে দিত না। এছাড়া মিলাদ-মাহফিলেও বাঁধা দিত তারা।’

ভুক্তভোগী আবু হানিফ কাঁঠালিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক। তিনি জানান, শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে তিনি হাঁটতে বের হয়েছিলেন। তখন জাহাঙ্গীর মৃধা ও মাসুম সরদারের নেতৃত্বে অনেকে মিলে তাকে রাস্তায় আটকে লাঞ্ছিত করে। এ সময় তার মাথায় মল ঢেলে দেয়া হয়।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আবু হানিফ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। কয়েকজন তার পথ রোধ করে। এরপর একজন তার মাথার টুপি ও কাঁধের রুমাল খুলে নেয়। তখন আবু হানিফ তার মোবাইল ফোন বের করলে একজন এসে ফোনটি কেড়ে নেয়। অন্য আরেকজন তার হাত চেপে ধরে রাখে। তারপর ব্যাগ থেকে একটা হাঁড়ি বের করে সেখান থেকে মলমূত্র ঢেলে দেয়া হয় হানিফের মাথায়।

এ সময় মাদ্রাসা সুপারকে হুমকি দিয়ে বলা হয়- ‘এইয়া নিয়া যদি বাড়াবাড়ি করো তাহলে তোর জীবন শেষ হইয়া যাইবে।’ এরপর তাকে গালাগালি করে স্থান ত্যাগ করতে বলা হয়।

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। তাদেরকে আদালতে পাঠানো হলে রিমান্ড আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক।

ঘটনাটি এরই মধ্যে তোলপাড় ফেলেছে সামাজিক মাধ্যমে। বরিশালবাসীও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবি জানাচ্ছেন।
আবু হানিফ বলেন, ‘অনেক আগে থেকে স্থানীয় জামায়াত শিবির অনুসারীরা মাদ্রাসা ও এর জমি দখল করার চেষ্টা করছিল। এই চক্রটি নানাভাবে বিনা অনুমতিতে মাদ্রাসার জমিতে বিভিন্ন কার্যক্রম করে আসছিল। আমি এতে বাঁধা দিই। এই নিয়ে মামলাও চলছে। আমি মামলার বাদী। এই কারণে ওরা আমার ওপর ক্ষিপ্ত।’

‘স্থানীয় মসজিদে মিলাদ ও মোনাজাত করতে দেয় না ওই চক্রটি। তারা জামায়াত ইসলামীর তরিকা অনুযায়ী কাজ করছে। এতে আমি প্রায় সময়ে প্রতিবাদ করি।’

আবু হানিফ জানান, তার কাঁঠালিয়া ইসলামিয়া দারুচ্ছন্নাৎ দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যের মনোনীত ব্যক্তিকে। এসব কারণে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিল তাকে লাঞ্ছনাকারীরা। তারা মাদ্রাসা  থেকেও তাকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করে।

‘শেষ পর্যন্ত তারা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লাঞ্ছনাকারীরা জোটবদ্ধ হয়ে জাতীয় পার্টি নেতা জাহাঙ্গীরকে সামনে রেখে আমার ওপরে ন্যাক্কারজনক এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’

যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি রঙ্গশ্রী ইউনিয়নে পড়েছে। পরিষদের চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এটি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’

আবু হানিফের মতো বশির উদ্দিনও এই ঘটনার জন্য জামায়াতপন্থীদেরকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘যারা এই কা- ঘটিয়েছে তাদের মধ্যে জামায়াতপন্থী লোকজন রয়েছে। যাদেরকে সবাই এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। আমরা চাই পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করুক।’

‘সারাদেশে জামায়াতের কর্মকা- বন্ধ হয়ে গেলেও আমাদের এই গ্রামে কিছু লোকের জন্য জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রম সচল রয়েছে। আর এরাই এসব কাজ করে আমাদের সমাজকে কলুষিত করছে।’

জানতে চাইলে বরিশাল বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘স্থানীয় ভাবে ওই চক্র জামায়াত কানেক্টেড বলে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত না।’
জামায়াতপন্থীরা এই ঘটনা ঘটালেও এর সঙ্গে স্থানীয় জাতীয় পার্টির এক নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগও এনেছেন মাদ্রাসা সুপার আবু হানিফ। তিনি জাহাঙ্গীর খন্দকার।

তবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন ও দলের কেন্দ্রীয় সভাপতিম-লীর সদস্য বাকেরগঞ্জের সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতœা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর খন্দকার এক সময় তাদের দল করতেন। তবে এখন জাতীয় পার্টির সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই। এখন তিনি আওয়ামী লীগ করেন। মাদ্রাসা সুপারকে লাঞ্ছনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেছেন তারা।

তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা এই দাবিকে অসত্য আখ্যা দিয়েছেন। তারা বলছেন, দলের নেতার দায় নিতে হবে বলে জাতীয় পার্টি এমন দাবি করছে। জাহাঙ্গীর এখনও জাতীয় পার্টিরই নেতা।

মন্তব্য
Loading...