২ ও ৫ টাকার নোট কমাতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক

৪০

বাজারে দুই ও পাঁচ টাকার নোট কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ দুই ধরনের নোট বিনিময়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। অতি প্রয়োজন হলেও একজনকে একশ’ পিসের বেশি না দিতে বলা হয়েছে। যদিও এসব মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা সরবরাহে কোনো বিধিনিষেধ নেই।

এর আগে অপর এক নির্দেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো ব্যাংক দুই ও পাঁচ টাকা মূল্যমানের অর্থ উত্তোলন করতে চাইলে অন্তত ৮০ শতাংশ ধাতব মুদ্রা নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।

ব্যাংকগুলো ধাতব মুদ্রা জমা দিতে চাইলেও বিভিন্ন অজুহাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিতে চায় না বলে অভিযোগ বেশ পুরনো। আর এ কারণে ব্যাংকগুলোও গ্রাহকের কাছ থেকে ধাতব মুদ্রা নিতে অনীহা দেখায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের থেকে না নেওয়ায় তারাও গ্রাহক থেকে নিতে অনাগ্রহ দেখান বলে ব্যাংকাররা বিভিন্ন সময়ে বলে আসছেন।

এ রকম পরিস্থিতির মধ্যে দুই ও পাঁচ টাকার নতুন নোট পাচার হচ্ছে- এমন খবর এসেছে। গত বছরের ২৯ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো ব্যাংক দুই ও পাঁচ টাকা মূল্যমানের নগদ অর্থ উত্তোলন করতে চাইলে আবশ্যিকভাবে ৮০ শতাংশ ধাতব মুদ্রায় এবং অবশিষ্ট অর্থ কাগুজে নোটে গ্রহণ করতে হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্নিষ্ট একজন কর্মকর্তা  বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে ধাতব মুদ্রা রাখার স্থান সংকুলান না হওয়ায় কিছু সমস্যা হচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র দেবাশীষ চক্রবর্ত্তীর কাছে গতকাল জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।

সম্প্রতি ব্যাংকগুলোতে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সাধারণ কাগজের চেয়ে অধিকতর টেকসই হওয়ায় এবং সন্দেহ এড়াতে বিভিন্ন দেশের মাদকসেবীরা হেরোইন ও ইয়াবার মতো মাদক গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের দুই ও পাঁচ টাকা মূল্যমানের নতুন কাগুজে নোট ব্যবহার করছে।

একটি চক্র বাংলাদেশ থেকে এসব মূল্যমানের নোট অবৈধভাবে পাশের দেশগুলোয় পাচার করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। ফলে উল্লিখিত মূল্যমানের নতুন কাগুজে নোট অন্য যে কোনো দেশে পাচার ঠেকাতে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। এ অবস্থায় গ্রাহক ও জনসাধারণকে দুই ও পাঁচ টাকা মূল্যমানের নতুন কাগুজে নোট বিনিময়ে যথাসম্ভব নিরুৎসাহিত করা এবং অতি প্রয়োজন হলে একজনকে এ ধরনের একটি করে নোটের এক প্যাকেট তথা একশ’ পিসের বেশি সরবরাহ না করতে ওই চিঠিতে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত ২৫ জানুয়ারি ভারতে দুই ও পাঁচ টাকার নোট পাচারের সঙ্গে জড়িত দু’জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে বিজিবি। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এ অপরাধে অনেকেই গ্রেফতার হয়েছেন। ধরা পড়ার পর নোট পাচারকারীরা জানান, হেরোইন ও ইয়াবা আগুনের তাপে গরম করলে তরলে পরিণত হয়। এ সময় ওই তরল পদার্থ ‘পন্নি’ বা বিশেষ পাইপের মাধ্যমে সেবন করে থাকে মাদকাসক্তরা। এর আগে হেরোইন বা ইয়াবা সেবনের পাইপ তৈরিতে সিগারেটের প্যাকেটের ভেতরে থাকা কাগজ ব্যবহার করা হতো। কাগজের পাইপ অল্প তাপেই পুড়ে যায়। তবে দুই ও পাঁচ টাকার নোট বিশেষ ধরনের কাগজে তৈরি হওয়ায় সহজে পুড়ে না। যে কারণে মাদকসেবীদের কাছে দুই ও পাঁচ টাকার নতুন নোট খুব জনপ্রিয়। ফলে তারা মূল্যমানের দ্বিগুণ দামে এসব নোট কিনে নেয়।

সংশ্নিষ্টরা জানান, যে কোনো মূল্যমানের কাগুজে নোট বাজারে ছাড়ার পর বিভিন্ন হাতবদলের একটি পর্যায়ে তা পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়। তবে ধাতব মুদ্রা নষ্ট হয় না বললেই চলে। এ ছাড়া টাকার তুলনায় ধাতব মুদ্রা বহন ঝামেলাপূর্ণ হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ তা নিতে চান না।

তবে মাঝে কয়েক বছর অনেকটা অপরিকল্পিতভাবে প্রচুর ধাতব মুদ্রা বাজারে ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। পদ্ধতিগত কারণে বিভিন্ন হাতবদলের পর এসব মুদ্রা এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে বিপুল অঙ্কের এসব মুদ্রা ধারণের মতো জায়গা সংকুচিত হয়ে আসছে।

উল্লেখ্য ১, ২ ও ৫ টাকার নোট সরকারি মুদ্রা হিসেবে বিবেচিত, যা ইস্যু হয় অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে। এ ছাড়া ১০, ২০, ৫০, ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকা মূল্যমানের নোট ইস্যু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারের ইস্যু করা নোটে সই করেন অর্থ সচিব। আর বাংলাদেশ ব্যাংক ইস্যু করা নোটে গভর্নরের সই থাকে। সূত্র : সমকাল

মন্তব্য
Loading...