দেশে ফিরেছেন রুমির স্বামীভিতরে ও বারান্দায় রক্তের দাগ, জট খুলতে মরিয়া পুলিশ

৩৪

নবীগঞ্জ উপজেলার সাদুল্লাপুর গ্রামে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হাতে লন্ডন প্রবাসীর মা মালা বেগম ও স্ত্রী রুমি বেগমকে নির্মমভাবে হত্যার রহস্যের জট এখনো খুলেনি। লোমহর্ষক এ হত্যাকান্ডের মুটিভ উদঘাটনে থানা পুলিশসহ মাঠে নেমেছে র‌্যাব, পিবিআই, ডিবি, ডিএসবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সাদুল্লাপুর গ্রামে নিহত মালা বেগম ও রুমি বেগমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ৫ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ এখনো চল। এরা হচ্ছে-একই গ্রামের ফুরুক মিয়ার বাড়ির কাজের ছেলে তালেব মিয়া, প্রতিবেশী ক্বারী আব্দুস ছালাম, তার ছেলে সাহিদুর রহমান, শুভ রহমান ও রিপন সুত্রধর। এর মধ্যে হত্যার মটিব উদঘাটনে ৩ জনকে হবিগঞ্জ ডিবিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ তাদেরকে ঘটনার রাতে ও সোমবার সকালে নানা স্থান থেকে আটক করেছে। পুলিশের দাবী খুব শীঘ্রই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। বউ-শ্বাশুড়ীর ময়না তদন্ত শেষে গতকাল লাশ বাড়িতে নিয়ে আসলে তাদের একনজর দেখার জন্য ভীড় জমে। নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় স্বজনদের কান্নায় আকাশ ভারী হয়ে উঠে।

ঘটনার খবর পেয়ে লন্ডন থেকে নিহত রুমির স্বামী এবং মালা বেগমের ছেলে আখলাক চৌধুরী ও তার বড় ভাই আলতাব মিয়া চৌধুরী লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন। আজ সকাল ১১ টায় নিহতদের জানাযা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে পারিবারক সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে গত রাতে নিহত রুমি বেগমের ভাই ডাঃ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১১।

গতকাল সোমবার ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন নবীগঞ্জ-বাহুবল আসনের সংসদ সদস্য এম এ মনিম চৌধুরী বাবু, হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডাঃ মুমফিক হোসেন চৌধুরী, পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা, নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডঃ আলমগীর চৌধুরী, নবঅগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদ বিন হাসান, ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) নাজমা বেগম, জেলা পরিষদ সদস্য এডঃ সুলতান মাহমুদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী, আওয়ামীলীগ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃংখলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

এদিকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ জনকে আটক করলেও তাদের কাছ থেকে কোন ক্লু-উদঘাটিত আদৌ হয়েছে কি-না তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে নির্মম এ হত্যাকান্ডের ঘটনা নিয়ে এলাকায় ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। কেন, কি কারনে বউ-শ্বাশুড়ীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো এমন প্রশ্ন গ্রামবাসীর। এছাড়া বিয়ের দু’বছরের মধ্যেও লন্ডন প্রবাসী আখলাক চৌধুরী স্ত্রী রুমি বেগমকে লন্ডন নেননি। নির্জন বাড়িতে পুত্রবধু রুমিকে নিয়ে শ্বাশুড়ী মালা বেগম একা থাকতেন। কাজের বুয়া পর্যন্ত নেই ওই বাড়িতে। সোমবার সকালে ঘটনাস্থল সাদুল্লাপুর নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ঘরের ভিতরে ও বারান্দার মেঝোতে রক্তের দাগ। বিশাল বাড়ি-ঘরে শয়ন কক্ষ ৬/৭টি। উভয় পাশে বারান্দা। বারান্দার চতুর পাশে গ্রীল এবং দু’দিকে কেচি গেইট। কেচি গেইটে ভাংচুরের কোন আলামত লক্ষ্য করা যায়নি। ঘটনার প্রায় ঘন্টা-আধা ঘন্টা আগে নিহত রুমি বেগম তার জনৈকা বান্ধবীর সাথে ফেসবুক ম্যাসিঞ্জারে চ্যাট করে বলে প্রাপ্ত সুত্রে জানাগেছে। অপর দিকে ঘটনার পুর্বে ওই গ্রামের এক ব্যক্তির মোবাইল থেকে নিহত রুমি বেগমের মোবাইলে প্রায় ১৭ বার কল দেয়া হয়েছে বলেও বিশেষ সুত্রে জানাগেছে। অপর দিকে লন্ডন প্রবাসী মৃত রাজা মিয়ার তৃতীয় স্ত্রী মালা বেগমের একমাত্র ছেলে লন্ডন প্রবাসী আখলাক চৌধুরী ওরপে গুলজার। তার বিমাতা আরও ৩ ভাই ও ২ বোন রয়েছে। প্রথম স্ত্রী গর্ভে বড় সন্তান আলতাব মিয়া ও ১ মেয়ে, দ্বিতীয় স্ত্রী গর্ভে ২ ছেলে সোনাওর মিয়া, আক্তার মিয়া ও ১ মেয়ে রাশেদা বেগম। এদের মধ্যে শুধুমাত্র গুলজারের মা নিহত মালা বেগম, সোনাওর মিয়ার মা এবং বোন রাশেদা বেগম ব্যতিত সবাই লন্ডনে অবস্থান করেন। তবে তারা ভাই বোনের মধ্যে পারিবারিক ভ্রাতৃত্ব সুলভ সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানান গ্রামবাসী।

ডাকাতির ঘটনায় খুন হতে পারেন বউ-শাশুড়ী এ কথাও মানতে নারাজ এলাকাবাসী। অনেকের দাবী অজ্ঞাতনামা দূর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বউ-শাশুড়ীকে। তবে কোন কারণে খুনীরা তাদের হত্যা করতে বাধ্য হয়েছে কি-না এ নিয়েও কানা ঘোষা চলছে। তবে নেপথ্যে কারন কি থাকতে পারে তা খতিয়ে দেখতে এবং হত্যাকান্ডের মুটিভ উদঘাটনে ঘটনার পর থেকেই পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে নেমেছে। মা মালা বেগম ও স্ত্রী রুমি বেগমের নির্মম এই হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে গতকাল সোমবার রাতেই বড় ভাই আলতাব চৌধুরীকে নিয়ে দেশে পৌছেছেন লন্ডন প্রবাসী আখলাক চৌধুরী ওরপে গুলজার।

উল্লেখ্য, গত রবিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের হাতে নিজ বসত ঘরে খুন হয় বউ-শাশুড়ী। নিহতরা হলেন নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী মৃত রাজা মিয়ার তৃতীয় স্ত্রী মালা বেগম এবং লন্ডন প্রবাসী পুত্র আখলাক চৌধুরী ওরপে গুলজার এর স্ত্রী রুমি বেগম।

মন্তব্য
Loading...