সিটি করপোরেশন নির্বাচনখুলনার নগরপিতা তালুকদার খালেক

৩৭

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বড় ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। মঙ্গলবার (১৫ মে) বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত ভোট অনুষ্ঠিত হয়। উত্তাপ ছড়ালেও মোটামুটি গোলযোগহীনভাবে এই সিটিতে ভোটগ্রহণের পর ভোট গণনা হয়।

নির্বাচনে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি কেন্দ্রের ভোট অনিয়মের কারণে স্থগিত হয়েছে। বাকি ২৮৬টি কেন্দ্রের ফলের বেসরকারী ভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

এতে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯০২ ভোট। তার নিকটতম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯৫৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৬৭ হাজার ৯৪৬।

এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘আমি মনে করি, জনগণ যে রায় দেবে, আমাদের সবারই সেই রায় মেনে নিয়ে, যেই বিজয়ী হবে, তাকে নিয়েই আমরা আগামী দিনে নগর ভবনের দায়িত্ব নিয়ে খুলনার মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা তা বাস্তবায়ন করব।’

এসময় বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পরাজয় অবশ্যম্ভাবী জেনে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বিএনপি ‘মিথ্যা অভিযোগ’ করছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনে প্রথমবারের মতো মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেয়র পদে যে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা হলেন- আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক (নৌকা), বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুর রহমান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)।

খুলনা সিটিতে মোট ভোটার চার লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী দুই লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন।

নির্বাচনে দুটি ভোটকেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার হয়েছে। নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২০৬ নম্বর কেন্দ্র ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩৯ নম্বর কেন্দ্রে মোট ১০টি ইভিএম ব্যবহার করা হয়।

২০০৮ সালের মেয়র নির্বাচনে খুলনায় বেশ বড় ব্যবধানে জিতে মেয়র হন তালুকদার আবদুল খালেক। পাঁচ বছরে তিনি চোখে পড়ার মতো উন্নয়নও করেন। এ নিয়ে নগরবাসী খুব একটা অসন্তুষ্ট ছিল, এমনটাও নয়।

তারপরেও নানা কারণে ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির কাছে বেশ বড় ব্যবধানে হেরে যান তালুকদার খালেক। ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন খালেক।

তার বাড়ি খুলনা শহরে হলেও ১৯৯১ সাল থেকে চারবার মংলা-রামপাল নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তালুকদার খালেক।

১৯৯৬ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এই নেতা এবার সেখানকার সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে মেয়র নির্বাচনে লড়েন। মেয়র থাকায় ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বাগেরহাট-৩ আসনে প্রার্থী হতে না পারায় তার স্থলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতেছিলেন তার স্ত্রী হাবিবুন নাহার।

মন্তব্য
Loading...