উৎপাদন সক্ষমতা সত্ত্বেও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকট: বিশেষজ্ঞের অভিমত

২০০,০৩৩

বাংলাদেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্রমেই বাড়ছে। বাড়ছে নতুন এলাকা বিদ্যুতায়ন ও নতুন সংযোগ দেয়ার কাজ। কিন্তু তাতে কমছে না গ্রাহকদের ভোগান্তি। অনেক এলাকাতেই বিদ্যুৎ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। যদিও লোডশেডিং মানতে নারাজ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

গেলো ১৪ জুলাই রাত ৯ টায় দেশে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড পরিমাণ ১১,৩০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। যদিও তা উৎপাদন সক্ষমতার এক তৃতীয়াংশ কম। এর আগে ৭ জুলাই দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১১ হাজার মেগাওয়াটের মাইলফলক অতিক্রম করে। এদিন উৎপাদন হয় ১১,০৫৯ মেগাওয়াট। বর্তমানে দেশে ক্যাপটিভসহ উৎপাদন সক্ষমতা ১৮,৭৫৩ মেগাওয়াট।

সরকারি হিসেব অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী ৯০শতাংশ। মোট গ্রাহক সংখ্যা দুই কোটি ৯৯ লাখ। গরম বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা মতো বিদ্যুৎ না পাওয়ার অভিযোগ তাদের। রাজধানীসহ দেশের শহরের মানুষ মোটামুটি বিদ্যুৎ পেলেও গ্রামে দুর্ভোগ বেশি। বুধবার দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ছিল ৯,৩৭৩ মেগাওয়াট। পিডিবি’র প্রতিবেদনে গড় উৎপাদন এ সংখ্যার কাছাকাছি দেখা যায়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. এম শামসুল আলম

সক্ষমতা সত্বেও মানুষকে ঠিকমতো বিদ্যুৎ দিতে না পারা প্রসঙ্গে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. এম শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা আছে, উৎপাদনের সক্ষমতাও আছে। কিন্তু উৎপাদন করা হচ্ছে না। কারণ, বিদ্যুৎখাতে আর্থিক ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। এক বছর আগে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সময় ঘাটতি ছিল ৬ হাজার কোটি টাকা। তখন দাম বাড়িয়ে দুই হাজার কোটি টাকা সমন্বয় এবং চার হাজার কোটি টাকা সরকার ভর্তুকি দেয়। তরল জ্বালানি দিয়ে বিদ্যৎ উৎপাদন করায় এক বছর ব্যবধানে সেই ভর্তুকি বেড়ে আট হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এখন ভর্তুকি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে না। লোডশেডিং মেনে নেয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলএনজি সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। এতে একদিকে তেলের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে উৎপাদনও বাড়বে। যার ফলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।

পরিসংখ্যান বলছে, বিগত নয় বছরে বিদ্যুৎখাতে সরকারি ও বেসরকারি নতুন ৮৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। আর এ সময়ে অবসরে গেছে মাত্র তিনটি কেন্দ্র। ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল মাত্র ২৭টি আর এখন ১১২টি। ওই সময়ে উৎপাদন সক্ষমতা ছিল চার হাজার ৯২৪ মেগাওয়াট।

মন্তব্য
Loading...