হাজীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির খাম খেয়ালিপনায় বাউরপাড় মজুমদার বাড়ির দুটি পরিবারের লোকজন ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন

0 ২০

হাজীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির খাম খেয়ালিপনায় বাউরপাড় মজুমদার বাড়ির দুটি পরিবারের লোকজন ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। বসতঘর দরজা বরাবর বিদ্যুতের মেইন লাইনের খুঁটি স্থাপন ও ঘরের উপর দিয়ে তার টানার কারণে ভবন উর্ধমুখী সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না।
জানা যায়, হাজীগঞ্জ উপজেলায় গন্ধর্ব্যপুর ইউনিয়নের বাউরপাড় গ্রামের মজুমদার বাড়িতে পূর্বপুরুষদের ভিটাবাড়িতে আলহাজ্ব মিজানুর রহমান পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। ২০০৩ সালে তিনি তার পূর্ব পুরুষের জায়গা তিন তলা ফাউন্ডেশন নিয়ে একতলা ভবন সম্পন্ন করেন। ২য় তলার জন্য কলাম তৈরি করে। এরপর তিনি কর্মস্থল ঢাকায় বেশিরভাগ সময় পরিবারপরিজন নিয়ে থাকেন। বাড়িতে লোক না থাকার সুযোগে ২০০৫ সালে হাজীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকজন মিজানুর রহমানের বসতঘরের দরজা বরাবর মাত্র ৫ফুট দূরে মেইন লাইনের খুঁটি স্থাপন করেন। আমির হোসেন ও তার ভাতিজা নুরুল আমিনের ভবনের উপর দিয়ে বিদ্যুৎতের মেইন লাইনের তার টানে। অথচ ভবনের পশ্চিম পাশে আমির হোসেনের নিজস্ব খালি জায়গা পুকুরসহ অনেক জমি রয়েছে। পুকুর ও খালি জায়গায় বিদ্যুৎতের খুঁটি স্থাপন না করে বসতঘর সংলগ্ন নারিকেল ও সুপারিসহ বিভিন্ন ফলফলাদি গাছের মধ্যস্থানে বিদ্যুৎতের খুঁটি স্থাপন করে। এ খুঁটি থেকে আশেপাশের কয়েকটি বাড়িতে লাইন দেওয়া হয়। সম্প্রতি প্রস্তাবিত একুশে গার্লস স্কুলের লাইনও দেওয়া হয় এ খুঁটি থেকে। মিজানুর রহমান ও তার ভাতিজা নুরুল আমিনের ঘরের লোকজন বসবাসের ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। মিজানুর রহমানের একতালা ভবনের উপর দিয়ে তার টানার কারণে দ্বিতল ভবন সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। একতলা ভবণের উপরে লোকজন উঠতে পারছে না। বিদ্যুতের খুঁটি ও তার টানার কারণে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হওয়ার ভয়ে কেউ নারিকেল, সুপারিসহ অন্যান্য ফলফলাদি পাড়ার জন্য গাছে উঠে না। বিভিন্ন গাছ পালার মধ্যখানে খুঁটি স্থাপনের ফলে ঝড় বৃষ্টিতে বিদ্যুতের তার ছিড়ে গাছের উপর পড়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে লোকজনের প্রাণহাণি ঘটতে পারে। মাঝে মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের লোকজন এসে নিজেদের ইচ্ছামত গাছের ডালপালা কেটে নারিকেল সুপারিসহ বিভিন্ন ফলফলাদি গাছ নষ্ট করেন। আশেপাশে খালি জায়গা থাকতে বসত ঘরের উপর বিদ্যুতের তার টানার কারণে জনসাধারণ মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গন্ধ্যর্বপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার প্রবীন ব্যাক্তি আলহাজ্ব মো. মিজানুর রহমান জানান, আমি পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় থাকার সুযোগে আমার বসত ঘরের দরজা বরাবর বিদ্যুতের মেইন লাইনের খুঁটি স্থাপন ও আমার একতলা ভবনের উপর দিয়ে লাইন টানা হয়। আমি বাড়ি এসে এ খুঁটি ও বিদ্যুতের লাইন নিরাপদ স্থানে সরাণোর জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের জানাই। ১০/১২ বছর ধরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিসে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানোর পরও আজ পর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমি ও আমার ভাতিজা নুরুল আমিন ঝুঁকি নিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছি। তিনি আরো ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাজীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রথমদিকে আমি সদস্য হয়েছিলাম। এলাকাবাসীকে সদস্য হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিলাম। অথচ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কতৃপক্ষ আমার সাথেই বিমাতা সুলভ আচরণ করল। প্রাণ হানিসহ দুর্ঘটনা রোধে নিরাপদ স্থানে বিদ্যুতের খুটি সরাণোর জন্য হাজীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা সহ উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মন্তব্য
Loading...