টেক্সটাইল খাতে দক্ষ জনশক্তি নিতে চায় জাপান

0 ২২

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, টেক্সটাইল খাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিতে চায় জাপান। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে তারা। অস্ত্র ও হ্যান্ডস গ্লোব ছাড়া বাংলাদেশকে সব পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে দেশটি। বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবার পরও জাপান বাংলাদেশকে চলমান বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখবে।

মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) সচিবালয়ে সফররত জাপানের হাউজ অব কাউন্সিলরের সদস্য (এমপি) মি. হিরোশি ইয়ামাদা এবং ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াসু ইজুমি মতবিনিময়কালে এ সব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্যসচিব শুভাশীষ বসুও উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে বাংলাদেশ জাপানে রফতানি করেছে ১ হাজার ১২ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। একই সময়ে আমাদনি করেছে ১ হাজার ৮৩৩ দশমিক ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। এখন জাপান বাংলাদেশের ৮ম বৃহত্তম রফতানি বাজার। আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে এ বাণিজ্য ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়াবে। উভয় দেশ এ জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

তিনি বলেন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বেশ চাহিদা রয়েছে। এখন প্রায় ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক জাপানে রফতানি হচ্ছে। দিন দিন এ চাহিদা বাড়ছে। এ মুহূর্তে বাংলাদেশে জাপানের ৩১২টি কোম্পানি বিনিয়োগ করেছে, এখানে প্রায় ৪২ হাজার জনবল কাজ করছে। জাপানের বিনিয়োগ প্রায় ১ হাজার ৪৬৭ দশমিক ২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোনের যে কোন স্থানে জাপানি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী দল কিছুদিনের মধ্যে বাংলাদেশ সফর করবে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনবার জাপান সফর করেছেন। জাপান আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ীক ও অর্থনৈতিক অংশীদার। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে জাপান। স্বাধীনতার পর থেকে জাপান বাংলাদেশকে ১৮.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। এ দেশের উন্নয়ন খাতের ৪০টি প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে জাপান। এ জন্য বাংলাদেশ জাপানের প্রতি কৃতজ্ঞ।

তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালে জাপানি প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের সময় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। অতি সম্প্রতি জাপান সফর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিনিয়োগ পলিসি, সস্তা ও দক্ষ জনশক্তি এবং বিনিয়োগের পরিবেশ জাপানি উদ্যোক্তাদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। তারা বাংলাদেশ সফর করে বিনিয়োগের খাতগুলো চিহ্নিত করবেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার উদ্যোগে ‘ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২৫’ আয়োজনের জন্য রাশিয়া, জাপান ও আজারবাইজান প্রার্থী হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের সমর্থন চেয়েছে। এ বিষয়ে যথাসময়ে বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত নেবে। জাপানের পর্যবেক্ষণে বর্তমানে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ ভালো, কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। এখন দেশটির সরকার জাপানি নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের উপর থেকে বিদ্যমান লেভেল-২ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

হিরোশি ইয়ামাদা বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছে জেনে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবার পরও বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে জাপান। বাংলাদেশ জাপানের বন্ধু রাষ্ট্র। জাপানের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে। বাংলাদেশের সঙ্গে জাপান বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়াবে।

মন্তব্য
Loading...